Skip to main content

কিভাবে কোন কিছু দ্রুত শিখবেন

May 27, 2026
পড়াশোনা

যেকোনো পড়া বা দক্ষতা দ্রুত শেখার ও দীর্ঘদিন মনে রাখার সহজ ৮টি বৈজ্ঞানিক কৌশল জানুন। আপনার শেখার গতি বাড়াতে আজই পড়া শুরু করুন!

কিভাবে কোন কিছু দ্রুত শিখবেন

আপনি এই আর্টিকেলটি পড়তেছেন মানে আপনি দ্রুত শিখতে আগ্রহী। হয়তো আপনি আপনার পরীক্ষার পড়াশোনা নিয়ে হতাশ। কারণ আপনার পড়াশোনার গতি অনেক কম।

এছাড়াও বর্তমান দ্রুত বর্ধমান ও প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে সবারই দক্ষতা থাকতে হবে। সেই দক্ষতাগুলো অর্জনে অবশ্যই আমাদের দ্রুত কোনো কিছু শিখতে হবে। অন্যদিকে সকল স্তরের শিক্ষার্থীদের খুবই কমন প্রশ্ন হলো কিভাবে দ্রুত শেখা যায়। যদি কোন কিছু একরাতে শেখা যায় তাহলে হয়তো শিক্ষার্থীরা বা আমরা সবাই অনেক খুশি হতাম তবে বাস্তবে তেমন কিছু সম্ভব নয়। কোন কিছু শিখতে অনেক সময় লাগে।

আমাদের অনেকেই দ্রুত শিখতে পারলে খুশি হবো এছাড়াও দ্রুত শেখার গতি বাড়াতে পারব। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন কিছু পদ্ধতি যার মাধ্যমে দ্রুত শেখা যাবে।

১. মস্তিষ্কের চর্চা করা (Sharpen The Axe):

কোন কিছু শিখতে হলে অবশ্যই আমাদের সুস্থ ও সবল মস্তিষ্ক দরকার। এছাড়াও আমাদের মস্তিষ্ককে অবশ্যই ধারালো হতে হবে। এ কারণে আমাদের চেষ্টা করতে হবে যাতে আমাদের ব্রেইন সর্বোচ্চ কর্মক্ষম থাকে। কোন কিছু শেখার জন্য কর্মক্ষম মস্তিষ্কের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে আব্রাহাম লিংকনের উক্তি থেকে বোঝা যায়-

“If I I only had an hour to chop down a tree, I would spend the fast 45 minutes sharpening my axe.”

আমরা বুঝে গেছি কোন কিছু শিখতে হলে কেন আমাদের ধারালো মস্তিষ্ক দরকার। চলুন জেনে নেই কিভাবে আমাদের মস্তিষ্ককে বেশি কর্মক্ষম ধারালো করা যায়-

  • পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে। পর্যাপ্ত ঘুম স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়াও স্মৃতিতে কোন তথ্য সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম দরকার।

  • মস্তিষ্ককে কর্মক্ষম রাখতে পর্যাপ্ত খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। খাদ্য অবশ্যই পুষ্টিকর হতে হবে।

  • নিয়মিত মাইন্ড গেম খেলতে হবে। যেমন- সুডোকো, দাবা ইত্যাদি।

  • আপনি যদি আপনার মস্তিষ্ককে কর্মক্ষম ও ধারালো রাখতে পারেন তাহলে দ্রুত যেকোনো কিছু শিখতে পারবেন।

২. মনোযোগ বৃদ্ধি করুন (Optimize Focus):

ধরে নিচ্ছি আপনার একটি ধারালো মস্তিষ্ক আছে কোন কিছু দ্রুত শেখার জন্য। এখন আপনার মনোযোগ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। কোন কিছু শেখার জন্য আপনার মনোযোগ যত বেশি হবে ততো দ্রুত ও ভালো ভাবে কোন কিছু শিখতে পারবেন। গভীর মনোযোগ দিয়ে কোন কাজ করলে তার ফলাফল কত ভালো তা Cal Newport তার বই “Deep Work” এ বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

এছাড়াও আপনি 5 Minute Rule ব্যবহার করে আপনার মনোযোগ বৃদ্ধি করতে পারেন। যদি কোন কাজ শুরু করার জন্য মনোযোগ দিতে না পারেন তাহলে নিজের মনকে বোঝান মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য কাজ করব। মনোযোগ সহকারে ৫ মিনিট কোন কাজ করতে পারলে আরো বেশি সময় ধরে ওই কাজ করতে পারবেন। এছাড়াও আপনি কিভাবে মনোযোগ বৃদ্ধি করা যায় তা নিয়ে ইউটিউবে বিভিন্ন ভিডিও দেখে নিতে পারেন।

৩. নিজের দুর্বলতা খুঁজে বের করুন ( Figure Out Weak Links):

কিছু শিখতে হলে তার সার্বিক দিক গুলো জানতে হবে। আবার ওই বিষয়ে আমার দুর্বলতা কি কি তা জানতে হবে। যখন সার্বিক ভাবে কোন বিষয়ে আমাদের ধারণা থাকবে তখন সহজেই আমরা তা শিখতে বা আয়ত্ত করতে পারব। দুর্বলতা ও কঠিন বিষয় শনাক্ত করার পর শেখা শুরু করতে হবে।

যেমন: একাডেমিক বিষয় হলে, প্রথমে এক পেজ এর সিলেবাস তৈরি করা যেতে পারে। শেখার শুরুতে ওই বিষয়ে যা যা শিখতে হবে তা এক পেজে লিখে ফেললে শেখা সহজ হবে এবং প্রোগরেস জানা যাবে।

তার গোটা একটি দিন ওই বিষয়ের খুঁটিনাটি বিষয় শিখতে ব্যয় করতে হবে। একদিনে যত বেশি সম্ভব ওই বিষয়ে পড়তে হবে, ভিডিও দেখতে হবে। পড়া ও ভিডিও থেকে নোট নিতে হবে। দিনশেষে ওই বিষয়ে নিজে শেখা বিষয়গুলো দিয়ে হ্যান্ড নোট বানাতে হবে। হাতে তৈরি বা হাতে লিখে নোট করলে কোন কিছু বেশি মনে থাকে।

৪. প্রয়োজনের থেকে বেশি শিখতে হবে (Over Learning):

আমরা কোন কিছু শিখলে বা পড়লে সেই সময়ে পুরোটাই মনে থাকে। তবে সময়ের সাথে সাথে আমরা সব ভুলে যাওয়া শুরু করি। এভাবে চর্চা বা রিভিশন না দিলে একটা সময় সব ভুলে যাই। তাই যখনই কোনো কিছু শিখব তা প্রয়োজনের থেকে বেশি শিখব। কোন বিষয়ে পর্যাপ্ত বা বেশি শেখা থাকলে অনেক কিছু ভুলে গেলেও পর্যাপ্ত জিনিস মনে থাকবে। উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক আপনাকে দুজন মহান ব্যাক্তির দর্শন পড়তে হবে বা জানতে হবে। আপনি যদি তাদের দর্শন পড়েন এবং দর্শনে কি বলেছে তা শিখেন তাহলে একসময় তা ভুলে যাবেন। তবে আপনি যদি ওই দুজনের দর্শন পড়ার পাশাপাশি তাদের দর্শন এর সমালোচনা, সীমাবদ্ধতা, সাম্প্রতিক সময়ে গ্রহণযোগ্যতা ও দুজনের দর্শনের মিল ও তুলনামূলক পার্থক্য শিখতে পারেন তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে আপনি ওই দুজনের দর্শন মনে রাখতে পারবেন। এভাবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত শিখে আপনি দ্রুত ও অনেক কিছু শিখতে পারবেন।

৫. নিজেকে পরীক্ষা করুন (Test Yourself):

কোন কিছু শিখতে হলে একমুখী হয়ে শুরু করতে গেলে হবে না। পড়াশোনা বা কোন কিছু শেখার প্রসেস হতে হবে বহুমাত্রিক। শেখার সময় কতটুকু শিখলাম তা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। যেকোনো কিছু অল্প শিখে তা বার বার প্র্যাকটিস করতে হবে তারপর তার পরীক্ষা দিতে হবে। তাহলে শেখার প্রসেস অনেক দ্রুত হবে।

"There is no greater delight than to be conscious of sincerity on self-examination."

৬. নিয়মিত ফিডব্যাক নেওয়া (Get Intense Feedback Often):

আপনি যায় শিখুন না কেন তা কেমন শিখতেছেন বা শেখার মাঝে কোন ঘাটতি আছে কিনা সে সম্পর্কে নিয়মিত ফিডব্যাক নিতে হবে। মানুষ নিজের ভুল নিজে ধরতে বা বুঝতে পারেনা। নিজের ভুলগুলো জানতে অবশ্যই অন্যের সাহায্য নিতে হয়। তাই যখন আমরা কোনো কিছু শিখবো তখন যেন সে সম্পর্কে নিয়মিত ফিডব্যাক নেই। এমন না করলে সঠিকভাবে শিখতে পারবো না আবার ভুল পদ্ধতিতে শিখলে অনেক সময় লাগবে।

"Feedback is the only way to ensure you are still on the right track."

৭. শেখার মাঝে বিরতি দেওয়া:

যখন আমরা কোনো কিছু শিখতেছি তখন অবশ্যই শেখার মাঝে বিরতি দিতে হবে এবং বিরতি দিয়ে আবার তা শিখতে হবে। এ সম্পর্কে Ebbinghaus তার ” The Forgetting Curve” তত্ত্বে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

এখানে মূলত বোঝানো হয়েছে আমরা যাই শিখি না কেন সময়ের সাথে তা ভুলে যাই। কিছু শেখার পর কিছুটা বিরতি দিয়ে কিছুদিন পর আবার তা পড়লে এবং একটি সাইকেল অনুসরণ করে পড়লে বা শিখলে আমরা দ্রুত এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য শিখতে পারবো।

৮. অন্যকে শেখান:

আপনি যখন কোন কিছু শিখতে চাচ্ছেন এবং দ্রুত শিখতে চাচ্ছেন আপনার জন্য সর্বোত্তম পথ হল আপনি যা শিখছেন তা অন্যদের শেখানো। শেখার তত্বগুলো অনুযায়ী আমরা যদি কোন কিছু অন্য কাউকে শেখাই তখন আমাদের শেখার হার থাকে 90% যেখানে শুধু মাত্র পড়ে 10% শেখা যায়।

উপরে আলোচিত পদ্ধতি গুলো অনুসরণ করলে আপনি অনেক দ্রুত যেকোনো কিছু শিখতে পারবেন। এছাড়াও যা শিখবেন তা ভালোভাবে শিখতে পারবেন এবং দীর্ঘ সময় মনে রাখতে পারবেন।

মন্তব্য সমূহ

Write a Comment

0/250